• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামানত হারালেন তিন প্রার্থী নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত

মুক্তিযুদ্ধ করেও আজো মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট ) প্রতিনিধি: ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ছাতিনালী গ্রামের আব্দুর রউফ আকন্দ (ময়েজ)। এরপর স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজো মেলেনি তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বর্তমান সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ ময়েজ আকন্দ ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের পর পাক- হানাদার বাহিনীর দ্বারা মাতৃভ’মি আক্রান্ত হলে দেশ স্বাধীন করার প্রত্যয় নিয়ে তখন অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে ময়েজ আকন্দও যুদ্ধের প্রশিক্ষন নিতে ভারতে যান। অস্ত্র চালানোহস যুদ্ধ জয়ের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষন শেষে সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে দেশে ফিরে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে লিপ্ত হন। ৪৫ বছর আগের টগবগে যুবক ময়েজ আকন্দ আজ পরন্ত বেলায় তিনি ৪ মেয়ে ২ ছেলে নাতি-নাতনী নিয়ে অসহায় জীবন-যাপন করছেন।
ছাতিনালী শিব মুন্দিরের পুরোহিত অরবিন্দু বলেন, ৭১ সালে পাকিস্থানীদের অত্যচার থেকে জীবন বাঁচাতে গ্রামের সবাই ভারতে পালিয়ে যাই, ওই সময় ময়েজ কাকাই আমাদেরকে শরনার্থী শিবিরে দেখতে যান ও আমাদের খোজ-খবর নেয়। দেশ স্বাধীন হলে তিঁনিই আমাদেরকে দেশে ফিরে নিয়ে আসে এবং আগুনে পুরে দেওয়া বাড়ীঘর নিজের টাকা-পয়সায় তৈরী করে দেন।
ময়েজ আকন্দের সহযোদ্ধা পার্শ্বের গ্রামের ধীরেন চন্দ্র ও নজরুল ইসলাম জানান, ময়েজ ভাইসহ আমরা ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এক সাথে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেলেও তিঁনি পায়নি, ময়েজ ভাইও একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সমাজকর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। উদাহরন দিয়ে তারা বলেন, ৯৫-এর বন্যায় এলাকার সব মানুষের বাড়ি-ঘর ডুবে গেলে পাকা রাস্তায় গিয়ে আশ্রয় নেয় তখন তার বাড়ি থেকে চাল-ডাল এনে সবাইকে খাওয়ান। অতীতে তার বাড়ি কত লোক যে কাজ করে জীবন-জীবিকা চালিয়েছে তার হিসেব রাখা করা যাবে না, আর আজ তাঁরই ছেলেকে অন্যের বাড়িতে দিন মজুরীর কাজ করে কোন রকমে বাঁচতে হচ্ছে বলে এলাকাবাসী আক্ষেপ করেন।
ময়েজ আকন্দ আক্ষেপ করে বলেন আমার বাবার পাওয়া অনেক জমি-জমা অসহায় মানুষের বিপদে-আপদে উপকার করতে গিয়ে সব শেষ করেছি, এখন আমি শেষ বয়সে ছোট্ট একটা গুমটির দোকন দ্বারা  সংসার চালায়।
জীবন বাজি করে দেশ স্বাধীন করেছি। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানি ভাতাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করলেও সব কিছু থেকে আমি বঞ্চিত হচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সরকার চাকরীর সুযোগ দিলেও আমার একটা ছেলে-মেয়েকে চাকরী দিতে পারলাম না। বড় ছেলে সাইকেলে চেপে গরুর ডাক্তারী করে গ্রামে গ্রামে, ছোট ছেলে মানুষের বাড়িতে কামলা দেয়। বড় তিন মেয়েকে অনেক কষ্টে বিয়ে দিলেও ছোট মেয়ে বিএ পাশ করে বাড়িতে আছে টাকার অভাবে চাকরীও দিতে পারছিনা বিয়েও দিতে পারছিনা।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোঃ মিছির উদ্দিন মন্ডল বলেন ৭১ সালে দেশকে পরাধীন থেকে মুক্ত করতে ময়েজের মত শত শত ময়েজ যুদ্ধ করেছে। সুতরাং সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধের সনদ পেলেন আমরাও খুশি হব। শেষ বয়সে এসব মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধের স্বীকৃতিসহ সনদ দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান তিঁনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ